অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষায় ফেল করায় ঢাবি অধিভুক্ত কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা

অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষায় ৩ বিষয়ে ফেল করায় আত্মহত্যা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ কলেজের অধিভুক্ত বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের এক ছাত্রী। আত্মহত্যাকারী ওই ছাত্রীর নাম মনিজা আক্তার মিতু। সে বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রী ছিল।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাতে নিজ বাড়িতে একটি গাছে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে। পরে বুধবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, অনার্স প্রথম বর্ষের প্রকাশিত ফলাফলে তিন বিষয়ে ফেল করায় আত্মহত্যা করেছে মিতু। নিহতের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘটনার সত্যাতা নিশ্চিত করে শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইউনুস বলেন, মনিরা আক্তার মিতু পরীক্ষায় ফেল করার কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আত্মহত্যার আগে মিতুর লেখা চিরকুট থেকে বিষয়টি জানা যায়। এই বিষয়ে শ্রীনগর থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে। পরিবারের অনুরোধের কারণে লাশ ময়নাদতন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে।

অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষায় ফেল করায় ঢাবি অধিভুক্ত কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা

নিহত মিতুর খালা রিনা খাতুন জানান, মৃত্যুর পূর্বে সে একটি সুইসাইড নোট লিখে যায়। সেখানে সে মৃত্যুর জন্য নিজকে নিজেই দায়ী করে। গত ১৬ জুলাই মিতু কলেজে আসে তারপর সে কলেজ থেকে বিকেলে বাড়ি ফিরে যায়। বাড়ি ফিরে স্বাভাবিকভাবে খাওয়াদাওয়া করে। রাত ৯টা পর্যন্ত সে টিউশনি করে। পরে রাতে তার ছোট বোনের সঙ্গে একই ঘরে ঘুমাতে যায়। রাত ২টার সময় মিতুর মা ঘরের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি ও খোঁজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে ঘরের পেছনে গাছের সঙ্গে মিতুকে ঝুলে থাকতে দেখে চিৎকার দিলে পরিবারের অন্য সদস্যরা এসে মিতুকে উদ্ধার করে।

মৃত্যুর কারণ বর্ণনা দিয়ে মিতুর ফুফু মেঘলা জানান, সে অনেক ভালো ছাত্রী ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের খামখেয়ালিপনা রেজাল্ট প্রকাশ করায় মেনে নিতে পারেনি মিতু। যেটা জানিয়েই আত্মহত্যা করে।

বান্ধবী রোকেয়া আক্তার কেয়া জানিয়েছেন, মিতু ক্লাসে বাকি আট-দশটা মেয়ে থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সে নিয়মিত ক্লাসে বোরখা পরে আসত। মিতু অনেক ভালো ছাত্রী, পড়াশোনায় বেশ পটু ছিল। খুবই গরিব পরিবারের মেয়ে। টিউশনি করে নিজের পড়ালেখার খরচ চালাত। ক্লাসে কেউ কোন সাবজেক্ট না বুঝলে মিতু সবাইকে হেল্প করতো বলেও জানান কেয়া। সম্ভবত এত ভালো ছাত্রী হওয়ার পরও ফেল করার বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি সে।

কেয়া আরো বলেন, ১৬ জুলাই সকালে সাত কলেজের আন্দোলনে আমরা নীলক্ষেত মোড়ে ছিলাম।  তিন বিষয়ে ফেল করার ঘটনাটি ও মেনে নিতে পারেনি। আন্দোলনের দিন আমরা যখন নীলক্ষেত থেকে বাসায় ফিরছিলাম, ও বলছিল আমার মনে হয় আর পড়ালেখা করা হবে না, জীবনে কোনোদিন এমন রেজাল্ট হয়নি রে আমার। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর মিতু তার মাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কান্নাকাটি করেছে বলেও জানান মিতুর এই বান্ধবী।